এমপি_সাহেব Sumi Akhtar তৃতীয়_পর্ব


 

এমপি_সাহেব
Sumi Akhtar 
তৃতীয়_পর্ব 

সময়টা সকালও না দুপুরও না মাঝ বরাবর সময়। বাড়ির পুরুষরা বাইরে রান্নার জায়গায় তদারকি করছে আর নারীরা হাতে হাতে সাহায্য করছে। বাড়ির মেয়েরা সাজতে গিয়েছে পার্লারে আর প্রভাত, সাফকাত তাদের এক বন্ধুকে এগিয়ে নিতে গিয়েছে। কিছু সময় মধ্যে বরযাত্রী এসে পৌঁছাবে তার জন্য সৌদামিনী রহমান বারবার কল করে তাড়া দিচ্ছে মেয়েদের। এদিকে মায়ের এতো কল দেখে বিরক্তিতে সাইলেন্ট করে দিয়েছে। সেটি বুঝেই সৌদামিনী রেগে আগুন তার কথার কি কোনো দাম নেই? একবার আসুক আজ বাড়িতে সব কয়টার খবর আছে। কথা খানা বলছে আর কাজ করছে আর তার এই কান্ডে তার ননদ আর জাল হেসে চলেছে ঠিক জানে কাজে তা একটুও ফলবে না মেয়েদের আদরে ডাকে।

গুনে গুনে পয়ত্রিশ মিনিট পর রাত্রিরা পৌছালো।তার কিছু সময় আগেই প্রভাত বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়েছে। সিড়ি দিয়ে নামার সময় চোখ যায় প্রভাতের মেইন ডোরের দিকে তাকাতেই যেনো চোখ আটকে যায় তার। রাত্রির পরনে কালো কালারের গাউন যাতে হালকা সোনালি সুতো দিয়ে কাজ করা। ফর্সা শরীরে তা একদমই নজরকাড়া। সামনের দিকে এগিয়ে ঠিক রাত্রির বরাবর গিয়ে দাড়ায়।

 নিজের সামনে কারোর অস্তিত্ব অনুভব করে সামনে তাকায় রাত্রি আর তাই যেনো কাল হয়ে দাড়ায় তার শুভ্র রঙের পাঞ্জাবিতে প্রভাত ভাইকে দেখে কি লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবে না সে। এই প্রথম রাত্রি তার প্রভাত ভাইকে এমন রঙের পোশাকে দেখলো তা দেখেই তার একটি প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হলো

" এতো সুন্দর হতে কে বলেছিলো আপনাকে প্রভাত ভাই? মেয়েরা যে আপনার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকবে তা যে আমার সহ্য হবে না। "

কথাটা ভাবতেই যেনো রাত্রির রাগে শরীর জ্বলে উঠলো মন চাইলো এখনই এই পাঞ্জাবি নিষিদ্ধ করতে প্রভাতের জন্য মানুষের সোরগোলে কিন্তু তা তো সম্ভব না। তাই পাশ কা'টিয়ে যেতে নিলে আবারো প্রভাত সামনে এসে বিরক্ত স্বরে বলে,

" দিন দিন বড় হচ্ছিস আর বেয়াদবে পরিনত হচ্ছিস। দেখলি আমি কিছু বলতে নিলাম আর ওমনি পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিস। "

" কই আপনি কিছু বললেন প্রভাত ভাই সেই তো কখন থেকে দাঁড়িয়েই আছেন কিছু বলছেন না। "

" আবার মুখে মুখে তর্ক আর এগুলো কি পরেছিস ছাতার মাথা একদম বাজে লাগছে। "

" মিথ্যে বলবেন না প্রভাত ভাই সবাই বলেছে সুন্দর লাগছে। "

" কি... সবার চোখে কি সমস্যা দিলো নাকি যে কুৎসিতকে সুন্দর বলছে। "

প্রভাতের শেষের কথা তীরের মতো বিঁধল যেন যার কারণে সাথে সাথে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে কিন্তু নিচে পরতে দেয় না প্রভাত নিজের হাতে মুঠ করে নিয়ে বলে,

" সে কি জানে তার চোখ থেকে গড়িয়ে পরা পানি কাউকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে? সে কি জানে তার সেই মায়াবী চোখে কেউ একজন কবেই নিজেকে হারিয়েছে।"

প্রভাত কথাটি বলেই প্রস্থান করে আর রাত্রি প্রভাতের বলা কথাটি ভাবতে থাকে কি বলে গেলো সে?

★★★

বাড়িতে মানুষ গিজগিজ করছে ঠিকভাবে তাই হাঁটতেও পারছে না লেহেঙ্গা ধরে মাধবীলতা। বারবার হিমশিম খাচ্ছে সে এরই মাঝে জোরসে একটা বারি খায় সে এগেই মেজাজ ফোর টুয়েন্টি হয়ে যায়। গলাবাজি করে সামনের লোকটির তাকিয়ে বলে,

" কোন আহাম্মকরে দিন দুপুরে দেখে চলতে পারে না সামনে মানুষ আছে তা চোখে পরে না। "

" এক্সকিউজ মি। "

" এই ইংরেজের বাচ্চা আবার কই থেকে আসলো? হু আর ইউ ইংরেজ চাইল্ড? "

" কিসের ইংরেজের বাচ্চা আমাকে কোন দিক দিয়ে তোমার ইংরেজের বাচ্চা মনে হয়? "

" সব দিক দিয়ে ইংরেজদের মতোই ফর্সা যে আপনার ফর্সার চোটে আমাকে সানগ্লাস পরতে হবে মনে হচ্ছে আর দ্বিতীয় কোনো কথা নাই বার্তা প্রথমেই ইংরেজ মারা শুরু করছেন। তা ইংরেজ চাইল্ড তোমার বাবা-মা কি তোমাকে রেখেই লন্ডন ফিরে গেছে? যে এখানে ইংরেজি মা***

" আস্তাগফিরুল্লাহ মুখের কি ভাষা আল্লাহ। "

" আরে আমার নম্র ভদ্র লেজ বিশিষ্ট ছেলেরে কোনোদিন মনে হয় খারাপ ভাষা উচ্চারণই করো নাই। কই থেকে আইছেন গো পাশের বাসার খালা আপনি? "

" ওয়াট ডিউ মিন পাশের বাসার খালা? কোন দিক দিয়ে তোমার আমাকে খালা লাগে?"

" সবদিক দিয়ে তাইতো খালাদের মতো ভাষণ দিচ্ছেন। নিজের চরকায় তেল না দিয়ে আশেপাশের খবর রাখে।

" এই মেয়ে তোমাকে তো..."

কথা আর শেষ করতে পারেনা সে তার আগেই প্রভাত ডেকে উঠে

" এই আরাভ কি করছিস সেখানে? "

এদিকে সাফকাতের কন্ঠে লোকটির সাফকাতের পরিচিত মনে হতেই মাধবীলতা ভো দোড় দার কোনো খোঁজ নাই। আর এদিকে প্রভাতের উত্তর না দিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখে মেয়েটি নেই হাওয়া

" কই গেলো? "

" কিরে কখন থেকে খুঁজছি কই ছিলি? "

" আর বলিস না ঝগড়াঝাটি রাক্ষুসির পাল্লায় পরেছিলাম। "

" কি সব বলছিস চল ওদিকে যাই। "

অপরদিকে মাধবীলতা দৌড়ে রাত্রি আর পুষ্পিতার সামনে এসে থামে। ওকে এমন দেখে পুষ্পিতা বলে

" কিরে তোরে আবার কোন ষাঁড়ে তারা করলো "

" ইংরেজ ষাঁড়। "

মাধবীলতার কথা না বুঝতে পেরে দুজন একসাথে বলে

" এ্যা??"

" এ্যা নয় হ্যাঁ। "

চলবে??

[ জানি ছোট হয়েছে কিছু করার নাই প্রবলেমে আছ। কষ্ট করে লিখেছি কমেন্ট করেন সুন্দর সুন্দর। গল্প কোনো দিক খারাপ লাগলে বলবেন প্লিজ]

Post a Comment

Previous Post Next Post
       Click to Watch