🖤 তৃতীয় পর্ব
"তোমাতেই_বিভোর_থাকি"
✍️ কলমে: Sumi Akhtar
রাত গভীর। আবরার নিজের রুমে বসে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়ার সাথেই মিলিয়ে দিচ্ছে তার পুরোনো স্মৃতিগুলো। লন্ডনের মাফিয়া জগতের রাজা হয়ে ফিরে আসলেও বাংলাদেশের মাটিতে পা দিতেই আবেগ আর জ্বালায় জর্জরিত হচ্ছে সে।
অন্যদিকে, আনায়া তখনো স্তব্ধ। তার মনে হচ্ছে এই মানুষটা একেবারে অচেনা। একদিকে সে তার স্বামী—আরেকদিকে ঠিক যেন কোনো অচেনা রাক্ষস। চোখ বন্ধ করলেই মনে পড়ে যায় সেই রাতের কথা—যেদিন হঠাৎ করেই এই লোককে তার বর হিসেবে বিয়ে দিতে বাধ্য করা হয়।
📍 সকালবেলা...
আবরার নিচে নামলো ব্রেকফাস্টের জন্য। তার দুই বন্ধু ইয়ামিন আর রাতুল আগেই বসে, মুখে নানান হাসি আর চাহনি। আনায়া ট্রেতে করে খাবার নিয়ে আসে। শাড়ির আঁচলটা কোমরে গোঁজা, মুখে হালকা ক্লান্তির ছাপ। হঠাৎ রাতুল বলে উঠে,
"গুড মর্নিং, কেশবতী কন্যা!"
আবরারের মুখ শক্ত হয়ে যায়। চোখে রক্তিম আভা। কিন্তু কিছু বলে না, চুপচাপ বসে খাবার খেতে থাকে।
🖤 বাসার আঙিনায়...
লারা আর তার বাবা আজিম চৌধুরী নিজেদের পরিকল্পনায় ব্যস্ত। আবরারের সম্পত্তি, ব্যবসা আর বিয়ে—সবকিছু নিয়ে তাদের স্বার্থ জড়িয়ে আছে।
লারা মুখে মিষ্টি হেসে বলে,
"বাবা, দাদার সাথে একটু কফি শেয়ার করি? হয়তো মন গলবে।"
আজিম চুপচাপ মাথা নাড়ে।
কিন্তু দূর থেকে দাঁড়িয়ে থাকা আনায়া এই কথোপকথন শুনে ফেলে। তার বুক ধকধক করে। সে যেন বুঝতে পারছে—এই বাড়িতে তার স্থান খুবই অনিশ্চিত।
📍 ভার্সিটিতে...
আনায়ার ক্লাস চলছে। আলিফ আজ তার পাশে বসেছে। হঠাৎ আলিফ খেয়াল করে সে একটু গম্ভীর।
— "তুমি ঠিক আছো তো আনায়া?"
আনায়া মাথা নাড়ে,
— "হুম, ঠিক আছি।"
কিন্তু আলিফ বুঝে যায় কিছু একটা হচ্ছে। সে আনায়ার জন্য একটু বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে।
📍 রাত ১০টা...
আবরার হঠাৎ দেখলো তার বিছানায় একটা ছোট্ট প্যাকেট। খুলে দেখে তার প্রিয় কফির জার। নিচে ছোট্ট করে একটা চিরকুট:
“আপনার মাথাব্যথাটা হালকা হোক। কালকের মিটিংয়ে যেন ভালো থাকেন। – আনায়া।”
চোখ আটকে যায় চিরকুটে। অনেক বছর পর কোনো মেয়ের হাতের লেখা দেখে বুকের মধ্যে কেমন যেন একটা আলোড়ন চলে যায়।
📍 পরের দিন সকাল...
আবরার আনায়াকে নিচের বাগানে বসে পড়তে দেখে। গিয়ে পাশে দাঁড়ায়। আনায়া চমকে ওঠে।
— "আ...আপনি?"
— "তোমার চোখে ক্লান্তি কেন?"
— "না...এমনি..."
— "তুমি কি ভেবেছো আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যাবো?"
— "আপনি কি থাকবেন?"
— "আমি কি যাবো না ভাবার কারণ দিচ্ছি?"
চুপ করে যায় আনায়া। এই মানুষটা রাগী, কঠিন, অথচ কোথায় যেন এক অজানা মায়া আছে।
📍 শেষ দৃশ্য...
আবরার রাতে ল্যাপটপ খুলে পুরোনো একটা ভিডিও চালায়—একটা ছোট মেয়ের হাসিমুখ। তারপর ছোট্ট একটা ছবির ফ্রেম বের করে রাখে, সেখানে ছোট্ট আনায়া দাঁড়িয়ে আছে তার পাশে।
— "তুই শুধু আমার ছিলি, আছিস, থাকবি... কেউ ছুঁতে পারবে না তোকে... আর যদি চেষ্টা করে... তাদের শেষ গন্তব্য আমি নিজেই ঠিক করবো।"
ক্যামেরার চোখের মতো তাকিয়ে থাকা আবরার যেন প্রতিজ্ঞা করে...
(চলবে...)
আপনারা আগ্রহী হলে পরবর্তী পর্ব দ্রুত প্রকাশ করবো। কমেন্ট করে জানাবেন।
🖤 #তোমাতেই_বিভোর_থাকি_পর্ব_৩
✍️ Sumi Akhtar
