সুখের কুঁড়েঘর
✍️ লেখনীতে: সুমি আক্তার
📖 সূচনা পর্ব
বাসর রাতের নিরবতা
বাসর ঘরের ম্লান আলোয় অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় শুয়ে আছে অধরা। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। বাইরে যত জাঁকজমকই হোক, তার অন্তরের ব্যথা কেউ টের পাচ্ছে না।
---
কিছুক্ষণ আগের দৃশ্য
লাল বেনারসী পরে মাথায় এক হাত ঘোমটা টেনে বসেছিল অধরা। ঘরে এসি চললেও ঘাম ঝরছিল কপাল বেয়ে। সাথে ঝরছিল চোখের জলও। নিজের পড়াশোনা, নিজের স্বপ্ন—সব বিসর্জন দিতে হয়েছে।
এমন সময় ভীষণ পেটে ব্যথা উঠলো। তাড়াহুড়ো করে ওয়াশরুমে গেল অধরা। কিছুক্ষণ পরেই ফিরে এলো ভয় ও দুশ্চিন্তা নিয়ে।
মনে মনে বললো—
"হায় আল্লাহ! আমার তো পিরিয়ড হয়েছে! এখন উপায়? ন্যাপকিনও নেই…"
ব্যাগে খুঁজে অবশেষে পেয়ে গেল। নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো—
"যাক, মা ভাগ্যিস মনে করিয়ে দিয়েছিল! না হলে তো ভয়াবহ অবস্থা হতো। কিন্তু এই ভারী কাপড় পরে আর কতক্ষণ থাকা যায়?"
পেটের ব্যথায় কুঁকড়ে গেলেও ঘোমটা টেনে আবার বসলো অধরা। অনেকক্ষণ পেরিয়ে গেল, কিন্তু মানুষটা—যার সঙ্গে আজ তার জীবন বাঁধা পড়লো—সে এখনো ঘরে প্রবেশ করেনি।
---
ঘড়ির টিকটিক শব্দ
রাত দুইটা বাজলো। ঘড়ির শব্দে ঘোমটা তুলে তাকালো অধরা। বিরক্তি ও ব্যথায় হাঁপিয়ে উঠলো। ব্যাগ থেকে একটি থ্রি-পিস বের করে নিল। ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এল। তখন প্রায় আড়াইটা বাজে। বিছানায় এসে ধপ করে শুয়ে পড়লো। সারাদিনের ধকল আর শরীরের যন্ত্রণায় চোখ দুটো অচেতন হয়ে বন্ধ হয়ে এলো।
---
অধরার অতীত
অধরা তখনো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। ছোট্ট মেয়ে—তবুও বাবার কথার অবাধ্য হয়নি। নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে।
তালুকদার পরিবারের সন্তান হলেও কালের প্রবাহে তাদের সম্পদ, গৌরব সবই বিলীন হয়ে গেছে। বন্যায় হারিয়ে গেছে সহায় সম্পত্তি। সংসারের হাল ধরেছেন একাই আয়মান তালুকদার—অধরার বাবা। টানাপোড়েনের সংসারে একমাত্র ভরসা মেয়ের বিয়ে।
ভালো পাত্র পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তিনি। তাই কিশোরী কন্যাকে বলি দেওয়াতেও দ্বিধা করলেন না।
---
সাদমান চৌধুরী
অন্যদিকে, সাদমান চৌধুরী—বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। SSC Group-এর একমাত্র উত্তরাধিকারী। পড়াশোনা শেষে বাবার ব্যবসাতেই মনোযোগী হয়েছে।
প্রায় ছয় ফিট উচ্চতা, ফর্সা গায়ের রং। মুখাবয়বে অন্যরকম এক গাম্ভীর্য। সহজে কারো সাথে মিশে না। অল্পতেই রেগে যাওয়া তার স্বভাব। ছোট কিন্তু গোছানো চুল তাকে আরও পরিণত দেখায়।
---
বাসর ঘরের দেখা
অবশেষে সাদমান প্রবেশ করলো বাসর ঘরে। ঘরে ঢুকেই দেখতে পেল—অধরা ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে পড়েছে।
সাদমান কিছুক্ষণ নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তার দিকে।
তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বসলো…
---
চলবে…
👉 পরবর্তী পর্বে জানুন, ঘুমন্ত অধরার দিকে তাকিয়ে সাদমানের মনে কী ভেবেছিল!
---
🔖 সুখের কুঁড়েঘর — একটি আবেগময় গল্প, যেখানে স্বপ্ন, ভালোবাসা ও বাস্তবতার টানাপোড়েন একসাথে বুনে চলে জীবনের অজানা অধ্যায়।
