#রাত গভীর দ্বিতীয় পর্ব ✍ লেখনীতে: সুমি আক্তার


 #রাত গভীর
দ্বিতীয় পর্ব

✍ লেখনীতে: সুমি আক্তার

রাত প্রায় দু’টা বাজে। চারদিক নিস্তব্ধ, কেবল মাঝে মাঝে দূরের কুকুরের ডাকে সেই নীরবতা ভেঙে যাচ্ছে। রাবেয়া শ্বাস আটকে রিনির খাটের নিচে শুয়ে আছে। তার চোখে-মুখে কৌতূহল আর অদ্ভুত এক আতঙ্ক—আজ সে সত্যিটা জানবেই।

হঠাৎ রিনির শরীর কেঁপে উঠল। এক ধরনের চাপা গোঙানির মতো শব্দ বেরিয়ে এল ওর মুখ থেকে—ঠিক যেমনটা রাবেয়া বহুদিন ধরে শুনে আসছে। শব্দে আনন্দও আছে, আবার ব্যথার আভাসও মিশে আছে।

রাবেয়ার বুক ধড়ফড় করতে লাগল—"এ কি করছে রিনি? কার সাথে কথা বলছে?"

রিনি ধীরে ধীরে উঠে বসল, তারপর হাত বাড়িয়ে বালিশের পাশে রাখা কিছু একটা বের করল। চাঁদের আলোয় রাবেয়া চোখ কুঁচকে তাকাতেই দেখতে পেল—ওটা কোনো বই বা খাতা নয়, বরং লম্বা আর গোলাকার এক যন্ত্র।

রাবেয়ার চোখ কপালে ওঠার উপক্রম—
"আল্লাহ! এটা কি?"

রিনি ওই জিনিসটা হাতে নিয়ে নিজের সাথে কথা বলতে লাগল—
"উফ… আজকে একটু বেশি লাগছে… প্লিজ, প্লিজ থামিস না…"

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, আশেপাশে আর কেউ নেই। রিনি নিজের হাতেই ওই যন্ত্র চালাচ্ছে। হঠাৎ সেই যন্ত্র থেকে একধরনের কম্পন শোনা গেল, আর রিনি চোখ বন্ধ করে অদ্ভুত শব্দ করতে লাগল।

রাবেয়া হতবাক! সে ভেবেছিল—কোনো ছেলে নিশ্চয়ই আসে রিনির কাছে। কিন্তু বাস্তবে যা দেখল, তা যেন আরও বিব্রতকর।

প্রায় দশ মিনিট পর রিনি ক্লান্ত হয়ে খাটে লুটিয়ে পড়ল। যন্ত্রটা বন্ধ করে বালিশের নিচে লুকিয়ে রাখল। তারপর গভীর নিঃশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করল।

খাটের নিচে শুয়ে থাকা রাবেয়া তখন বুঝতে পারল—তার মেয়ে কারো সাথে নয়, বরং একা একাই…! এই বিষয়টা সে কীভাবে সামলাবে, সেটাই এখন তার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াল।

রাবেয়া মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল—আগামীকাল সকালেই মেয়ের সাথে এ নিয়ে কথা বলবে। কিন্তু কি বলবে? কীভাবে বলবে? সেটা ভেবে তার গলা শুকিয়ে গেল।

রিনির অজান্তেই এই রাত যেন মায়ের জন্য এক নতুন ধাক্কা হয়ে রইল।

চলবে…

পরের পর্ব গুলো পোস্ট করার সাথে সাথে পেতে
‎এই পেইজে ফলো দিয়ে রাখুন 👉Sumi Akhtar




Post a Comment

Previous Post Next Post
       Click to Watch