চোখে চোখ রাখলাম জেরিনের। আমি জানি সে বঠি হাতে নিলেও মারার সাহস পাবে না। বাবা বলেছিল, কখনও সাপের মুখোমুখি হলে ভয় পাবে না। শান্ত থাকবে। সাপ যদি তোমার রিয়েকশন দেখে ভয় পায় তাহলে ছোবল মারবে। সাপকে কখনও ভয় দেখাবে না। বাবার কথা এখন কাজে লাগাচ্ছিল।
আমার ঠান্ডা চাহনী দেখে জেরিন নার্ভাস হয়ে গেল। আমি তার হাত থেকে বঠি নিয়ে নিলাম। তারপর ইরাকে নিয়ে বের হলাম বাসা থেকে তাকে তার বাসায় পৌছে দিব।
রাস্তায় হাটছি। ইরাকে রিকশায় উঠিয়ে দিব তাই৷ টেনসনে দোকান থেকে সিগারেট ধরিয়েছি। ভেতরের কথাগুলো গুছিয়ে নিচ্ছি। কারন সবাই গুছিয়ে মিথ্যা বলতে পারে না।
ইরাকে আমি বললাম, আমাদের কাজের মেয়ে জেরিনের মাথায় সমস্যা। ও মাঝে মাঝে এরকম বিহেভ করে।
ইরা একটু রেগে বলল, তাহলে পাগলখানায় পাঠিয়ে দাও।
আমি বললাম, সেটা তো আমার চাওয়ায় হবে না। আমি বাবা মা যা চান তাই হবে। জেরিনের বাবা মা নাই। তাই তার প্রতি আব্বু আম্মুর সফট কর্নার কাজ করে।
ইরা বলল, আচ্ছা বুঝলাম।
একটা রিকশা ডেকে ইরাকে উঠিয়ে দিলাম বললাম বাসায় পৌছে কল দিও।
সৈকত দেখলো রিকশা করে এক সুন্দরী মেয়ে যাচ্ছে। সেটা ইরা তবে সৈকত এখনও ইরাকে চিনে না। সৈকতের সামনে একজন হিরোইন সিগারেটে ভরে খাচ্ছে। লোকটার নাম খোকা। খোকা সৈকতের চাহনী দেখে বলল, ভাই দিবেন নাকি এক টান।
সৈকত মাথা ঈশারায় হ্যা বলল।
আমি বাসায় এসে রেগে জেরিনকে বললাম, আজকে এই ঘটনার বিচার হবে। আব্বু আম্মু আসুক বাসায়। তারপর তোমার খবর আছে।
জেরিন চুপ করে আছে। হয়তো খানিকটা ভয় পেয়েছে।
রাতে আব্বু আম্মু বাসায় আসতেই ঘটনা খুলে বললাম উনাদের। আবারো আমাকে আব্বু একরুমে নিল। আর জেরিনকে আম্মু আরেক রুমে নিল।
আব্বু গ্লাসে বিয়ার ঢেলে বলল, তোমাদের সমস্যা তোমরা মিটমাট করবে সেটা ভেবেছিলাম। তোমাদের হাসবেন্ড ওয়াই এর ম্যটার আমার নাক গলানো পছন্দ তবুও বলো।
আমি বললাম, জেরিনের মাথায় সমস্যা। আমি আর ওর সাথে থাকতে পারব না। এখন থেকে ও এক রুমে থাকলে আমি থাকবো সোফার রুমে। এই পাগলের সাথে থাকার যায় না। মন চায় ওকে ডিভোর্স দেই।
আব্বু বললেন, তুমি কি ভেবেচিন্তে বলছো?
আমি বললাম, হ্যা। আমি ভেবেচিন্তে বলসি। আমি ওকে ডিভোর্স দিতে চাই। কারন আমি ইরাকে ভালোবাসি। আর আমাদের মাঝে সব হয়ে গেছে।
